বুধবার । ৩রা জুন, ২০২৬ । ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

প্রথমবার সৌদিতে অমুসলিম রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কূটনৈতিক ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে নয়াদিল্লি। ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর থেকে চলে আসা এক দীর্ঘস্থায়ী প্রথার অবসান ঘটিয়ে সৌদি আরবে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হলেন ১৯৯৮ ব্যাচের আইএফএস কর্মকর্তা বিপুল। নরেন্দ্র মোদী সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে রিয়াদে কোনো প্রবীণ মুসলিম কূটনীতিককে নিয়োগ করার যে ঐতিহ্য এতদিন ধরে চলে আসছিল, তাতে ছেদ পড়ল।

দ্য ওয়্যার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই নতুন নিয়োগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

স্বাধীনতার পর থেকে এতদিন পর্যন্ত সৌদি আরবে ভারতের রাষ্ট্রদূত এবং জেদ্দায় কনসাল জেনারেল হিসেবে শুধুমাত্র মুসলিম কূটনীতিকদেরই নিয়োগ করার রেওয়াজ ছিল। এর পিছনে একটি বিশেষ কারণও ছিল। প্রতি বছর হাজার হাজার ভারতীয় পুণ্যার্থী ইসলাম ধর্মের পবিত্র শহরগুলোতে হজ করতে যান, আর সেই হজ প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনার ক্ষেত্রে দূতাবাসের এই ভূমিকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হত। তবে গত কয়েক দশকে এই পদের জন্য উপযুক্ত প্রার্থীর সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছিল। পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মুসলিম কূটনীতিক খুঁজে বের করা এবং তাদের রিয়াদে কাজ করার সদিচ্ছার অভাব—এই দুই কারণেই পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে ওঠে। এমনকি উপযুক্ত উত্তরসূরি খুঁজে না পাওয়ায় অনেক সময় পূর্বতন রাষ্ট্রদূতদের তাদের নির্ধারিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে বাধ্য হয়ে অনেক সময় পেশাদার আইএফএস অফিসারদের গণ্ডির বাইরে গিয়েও প্রার্থী খুঁজতে হয়েছে। যার অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলেন মুম্বাই পুলিশের সাবেক কমিশনার আহমেদ জাভেদ, যিনি ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বর্তমানে কাতারে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত বিপুল, বিদায়ী রাষ্ট্রদূত সুহেল আজাজ খানের স্থলাভিষিক্ত হবেন। সুহেল আজাজ খান নিজেও ১৯৯৮ ব্যাচের একজন আইএফএস কর্মকর্তা এবং আরবি ভাষায় অত্যন্ত পারদর্শী। উপসাগরীয় অঞ্চলের সাথে তার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে; তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসাগরীয় বিভাগের যুগ্ম সচিব এবং দুবাইতে ভারতের কনসাল জেনারেল হিসেবেও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন।

নতুন এই রাষ্ট্রদূত এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রিয়াদের দায়িত্ব নিচ্ছেন, যখন সৌদি আরব এক পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরানের সাথে যুদ্ধের উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে নানা প্রশ্নের পাশাপাশি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিয়াদ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিররাতের সাথে এক প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে।

উল্লেখ, সংযুক্ত আরব আমিররাতের উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। তবে এই সমস্ত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের মাঝেও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিপুল বিনিয়োগ এবং সর্বোপরি সৌদি আরবে বসবাসকারী প্রবাসী ভারতীয়দের কল্যাণের ক্ষেত্রে রিয়াদ এখনও ভারতের এক অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবেই নিজের মজবুত স্থান ধরে রেখেছে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন